হেটার ম্যানেজমেন্ট

হেটার ম্যানেজমেন্ট
হেটার ম্যানেজমেন্ট’ নামে আমার একটা বই লেখার পরিকল্পনা আছে।
তবে এখনই লিখবো না বা লেখার জন্য প্রস্তুত না। বর্তমানে আমার হেটার সংখ্যা সাকুল্যে ৬০-৭০ জনের মতো। এই ক্ষুদ্র পরিমাণ হেটার স্যাম্পল সাইজ হিসেবে খুব কম। যাদের লাখ লাখ হেটার আছে তাদের নিয়ে বিষদ গবেষণা করতে হবে। কারো তো কোটি কোটি আছে।
এই পোস্ট তাদের জন্য যাদের হেটার সংখ্যা ৫০ বা তার কম। কীভাবে এত এত ঘৃণা নিয়ে আপনি বেঁচে থাকবেন তার একটা ছোটো গাইডলাইন।
যদি প্রশ্ন করি পৃথিবী কার কোনো হেটার নেই? সবাই ভালোবাসে বা অন্তত পছন্দ করে, এমন কে আছে?
আসলে এমন কোনো ‘এক্টিভ’ মানুষ নেই যাদের হেটার সংখ্যা শূন্য। এখানে এক্টিভকে কেন আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছি? ধরুন, এক লোক তেমন কিছুই করে না। কারো সাতেপাঁচে নেই। খায়দায়, ঘুমায়। এই লোকের হেটার নাও থাকতে পারে। কারণ তাকে মানুষ সেভাবে চেনেও না। সে কী করলো তাতে কারো কিছু যায়-আসে না।
এখন আপনি যদি এক্টিভ মানুষ হন আপনার হেটার তৈরি হতে থাকবে। আপনি খারাপ করলেও হেটার বাড়বে। ভালো কাজ করলেও হেটার বাড়বে। একজনের ভালো করেছেন দেখে আরেকজন আরেকজন হেট করবে।
নবি-রাসুল থেকে শুরু করে সমাজসেবক, সবারই হেটার আছে। তাদের অপছন্দ করা মানুষ আছে। বরং যে যত বড়ো স্কেলে ভালো কাজ করবে তার হেটার সংখ্যাও তত বাড়তে থাকবে।
ধরুন, একজন সৎ পুলিশ। সে যত মানুষের উপকার করবে চোর-ডাকাতেরা তাকে তত ঘৃণা করবে। শুধু তারা না, তার কারণে চাপে পড়া আরেকটা পুলিশও ঘৃণা করবে। তাকে ঘুষ দিয়ে কিনতে না পেরেও কেউ ঘৃণা করবে।
তো দেখা যাচ্ছে কিছু করলেই ঘৃণার দলা এসে আপনার গায়ে লাগে। তাহলে ভালো আর খারাপ কাজের পার্থক্য রইলো কোথায়? পার্থক্য হচ্ছে কারা আপনাকে ঘৃণা করছে তার ওপর।
বাংলাদেশে কয়েকবছর আগেও সবচেয়ে বেশি গালি খাওয়া মানুষের তালিকা করলে তাহসানের নাম পাওয়া যেতো। উনাকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, তার হেটারদের উনি কীভাবে ডিল করেন!
উনার উত্তরটা ছিল এমন_যারা আপনাকে ঘৃণা করে তারা আসলে জানে না আপনি কোন কাজটা কেন করেছেন। তাহসান মূলত গালি খাওয়া শুরু করে নাটকে এসে। উনি আহামরি কোনো অভিনয় জানেন না। মানুষ তার অভিনয়কে ন্যাকামি মনে করে। তার জন্য ইন্ডাস্ট্রি নষ্ট হচ্ছে মনে করে। কিন্তু তাহসানের নাটক পছন্দ করে এমন মানুষের সংখ্যাটাও তো কম না। আগে যে বাজেটে নাটক হতো তাহসানের জন্য তারচেয়ে বেশি বাজেটের নাটক হচ্ছে। এতে তো আসলে ইন্ডাস্ট্রির লাভ। এখন এই জিনিসটা যদি কোনো হেটারের সাথে কথা বলে বোঝানো যায় তাহলে হয়তো আপনাকে আগের মতো অপছন্দ করবে না। অথবা সে হয়তো পাল্টা কোনো যুক্তি দিয়ে আপনার ভুল ভাঙাবে। কিন্তু যে আপনার সাথে কোনো আলোচনায় যেতেই ইচ্ছুক না, তার ঘৃণার আসলে কোনো মূল্য নেই।
তাহলে ব্যাপার দাঁড়ালো, হেটারেরও প্রকারভেদ আছে। যারা আপনাকে অন্ধভাবে হেট করে যাবে তাদের নিয়ে আপনার ভাবার প্রয়োজন নেই। তারা সব জেনে ফেলেছে ভেবেই বসে থাকবে। যারা হেট করার পরেও আপনার সাথে আলোচনায় যেতে প্রস্তুত, তাদের পছন্দ-অপছন্দকে মূল্যায়ন করুন।
আপনার চারপাশে অনেক মানুষ আছে যারা আপনাকে অপছন্দ করে। আজকেই তারা কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে ভেবে বের করুন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের সাথে আলোচনায় যান। এতে আপনার বা তার ভুল ভাঙবে। যারা আলোচনায় যেতে প্রস্তুত না তাদের নিয়ে চিন্তা করে কাজ নেই। তারা হেটার হওয়ার কোয়ালিটিও রাখে না।
Posted in Uncategorized
Write a comment