
শিক্ষক ছাত্রকে বলল, এক দিকে জ্ঞান আরেকদিকে টাকা থাকলে তুমি কোনটা বেছে নেবে?
ছাত্র একটু ভেবে বলে, টাকা নেবো।
শিক্ষক তো উত্তর শুনে অবাক। বলো কী! আমি হলে তো জ্ঞান নিতাম।
চালাক ছাত্র জবাব দেয়, যার যেটার অভাব সে তো সেটাই নেবে!
পুরনো কৌতুক, তবে নতুন করে একটা জিনিস ভেবে দেখুন। ছাত্রর কথা কিন্তু প্রচণ্ড বাস্তবসম্মত। যার যেটার অভাব সে সেটাই চাইবে। আপনি হয়তো আপত্তি করতে পারেন শিক্ষকের ছাত্রের চেয়ে কম জ্ঞান আছে নাকি!
সেক্ষেত্রে চলুন দেখে নেই “অভাব” কী?
আপনি কোনো জিনিস যতটুকু চান তার চেয়ে কম থাকাই অভাব। একজনের মাসে আয় ১৫ হাজার, খরচ ১২ হাজার। এই ব্যক্তির অভাব নেই। উল্টো ৩ হাজার সঞ্চয়। আবার এক ব্যক্তির আয় ৫০ হাজার, খরচ ৬০ হাজার। এই ব্যক্তি অভাবে আছে। তার প্রতি মাসে ১০ হাজার ঋণ করতে হচ্ছে। অভাব পুরোপুরি আপেক্ষিক।
আপনি খেয়াল করে দেখবেন যারা বেশি জানে তারাই আরও জানার জন্য তৃষ্ণার্ত থাকে। যারা কম জানে তারাই নতুন করে জানার চেষ্টা কম করে। কতকিছু জানে না সেই ব্যাপারে কোনো হুঁশ নেই। একটা ভালো ছাত্র খারাপ ছাত্রের চেয়ে অনেক বেশি জানে। তারপরেও ভালো ছাত্রটাই আরও বেশি পড়ে।
অনেকের মতে সর্বকালের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি হচ্ছে সক্রেটিস। সেই সক্রেটিস বলেছেন, “আমি শুধু একটা ব্যাপার জানি, তা হচ্ছে আমি কিছুই জানি না।”
চলুন একটু প্যাঁচ লাগাই। সক্রেটিস নিজেই স্বীকার করছে সে কিছু জানে না। তাহলে তাকে আমরা জ্ঞানী বলব কেন? সে কি নিজের সম্পর্কে ভুল বলবে?

একটা কাল্পনিক ঘটনা বলি। এক ব্যক্তি আমার কাছে দাবি করলো সে মোটামুটি অনেক কিছুই জানে। হড়হড় করে বলতেও লাগলো কী কী জানে। তাহলে তো সে সক্রেটিসের চেয়ে বেশি জানে। কারণ সক্রেটিস কিছু জানে না। আমিও ভেবে দেখলাম কথা তো ফেলবার মতো না।
তবু ভাবলাম এটা মেনে নেয়ার আগে বরং সক্রেটিসের সাথে ওই জ্ঞানী ব্যক্তির একটা প্রতিযোগিতা হয়ে যাক।
প্রতিযোগিতার সময় দুইজনের হাতে খাতা-কলম ধরিয়ে দিলাম। তাদের লিস্ট করতে হবে কী কী জানে না।
পাঁচ ঘণ্টা পর তাদের খাতা নেয়া হলো। গুণে দেখলাম কার লিস্ট কত বড়। জ্ঞানী ব্যক্তি সব মিলিয়ে ১৭৩টি জিনিসের কথা লিখেছে যা সে পারে না। সক্রেটিস লিখেছে ১৪২৬টি জিনিস।
তাহলে কী দাঁড়াল? সক্রেটিস আসলেই কম জানে?
এখনো ঘটনা শেষ না। এবার খাতা অদল-বদল করতে বললাম। দেখা গেল জ্ঞানী ব্যক্তির করা না জানা লিস্টের ১৭০টিই সক্রেটিস জানে! ওদিকে সক্রেটিসের করা লিস্টের মাত্র ৬টি ওই ব্যক্তি জানে। তার মানে বাকি ১৪২০টি তার জানা ছিল না। এটা নিজেই জানত না।
সে মাথা নিচু করে স্বীকার করলো নিজের অজ্ঞতা আবিষ্কার করাই সবচেয়ে বড় জ্ঞান।
এখনো প্রশ্ন থেকে যায়। ধরুন আপনি লিস্ট করলেন কী কী জানেন না।
* পদার্থবিজ্ঞান
* জীববিজ্ঞান
* হিসাববিজ্ঞান
…
…
আপনি যদি পদার্থবিজ্ঞান শেখা শুরু করেন তাহলে তো লিস্ট ছোট হয়ে যাবে। তার মানে কি আপনার জ্ঞান কমে গেল! আসলে তা না। আপনার লিস্ট তখন আরও বড় হবে। তখন বুঝবেন আপনি থিওরি অব রিলেটিভিটি জানেন না, কোয়ান্টাম মেকানিক্স জানেন না, আলো কণা নাকি তরঙ্গ জানেন না, আরও অনেক কিছু জানেন না। সেগুলো যখন জানবেন আরও বেশি অজানা খুঁজে পাবেন।
এবার দেখুন আপনার লিস্ট অন্যদের চেয়ে বড় নাকি ছোট!