
রক্তের সম্পর্কের বাইরে আমার জীবনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সোহেল স্যার।
আমার আশেপাশে কেউ বই পড়ত না। তাকে দেখে বই পড়তে আগ্রহী হয়েছি।
সমাজ নিয়ে এত চিন্তা করতাম না। অথচ ২০০৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত নিজের চেয়ে সমাজ সংস্কার নিয়ে বেশি ভেবেছি। এর পেছেন তার ভূমিকা।
তাকে রক্ত দিতে দেখে ভাবতাম, ১৮ বছর হলে আমিও রক্ত দিবো বছরে ৩ বার। জীবনে সবচেয়ে বেশিবার রক্ত দেওয়ার বিশ্বরেকর্ড করার কথা চিন্তা করতাম। যদিও অসুখের কারণে কখনও রক্ত দিতে পারিনি। আমার দিতে সমস্যা নেই। যে নিবে তার সমস্যা হবে।
স্কুলে থাকতে যখন লেখালেখি শুরু করি, আমার মাত্র ৩ জন পাঠক ছিল। এরমধ্যে সোহেল স্যার একজন। সে নিজে লেখালেখি না করলেও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। অহেতুক পাম না দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনাও করত।

আমিও খুবই স্বপ্নবাজ একজন মানুষ। এর পেছনে সোহেল স্যারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। একবার কথায় কথায় সে বলেছিল, “মানুষ জীবনে এমন অনেক কিছু করে ফেলে বা পেয়ে যায়, যা সে স্বপ্নেও দেখেনি।” সেদিন মনে মনে আমি সিদ্ধান্ত নেই- জীবনে এত বড়ো স্বপ্ন দেখবো যে সেটার চেয়ে বেশি অর্জন করা সম্ভব না। জীবনে কম পরিশ্রম করিনি, কম জিনিস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করিনি; এতকিছু করার পর আমার স্বপ্নের ১% পূরণ হয়নি এখন পর্যন্ত।
সোহেল স্যার একজন ভালো টিচার বলা বাহুল্য। একটা সময় পর্যন্ত আমার লক্ষ্য ছিল তারচেয়ে ভালো টিচার হওয়ার। সম্ভবত আরও ৮ বছর আগেই সেটা ছাড়িয়ে গেছি। এ ব্যাপারে আমি যথেষ্ট কনফিডেন্ট। কিন্তু সে মোমবাতি হয়ে আগুন না দিলে আমি মশাল হতে পারতাম কিনা সন্দেহ।
আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে সে। এই পোস্ট নজরে পড়ে গেলে লজ্জা পাবো। কোনোদিন এগুলো সরাসরি বলতে পারিনি। হয়তো সে নিজেও জানে না আমার জীবনে তার এত ইম্প্যাক্ট আছে; সেটা এখনও মনে রেখেছি।