
প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছুর নেশা থাকে।
কারো বইয়ের নেশা, কারো চায়ের নেশা, কারো সিগারেটের নেশা, কারো ফেসবুকের নেশা, কারো সিনেমার নেশা।
মূলত নেশা আর প্রয়োজনের মধ্যে পার্থক্য আছে। আপনি প্রতিদিন খাবার খাচ্ছেন; সেটা কিন্তু আপনার নেশা না, প্রয়োজন। কিন্তু আপনি প্রতিদিন পিজ্জা খাচ্ছেন, সেটা আপনার নেশা হতে পারে।
নেশা মূলত তখনই হবে যখন সেটা আপনি ছাড়তে পারছেন না। আপনার এলাকায় পিজ্জা ছাড়া অন্য কোনো খাবার নেই। তাই খিদা মেটাতে আপনার পিজ্জাই খেতে হবে; এটাকে নেশা বলা যায় না। পিজ্জা খেয়ে আপনি মোটা হয়ে যাচ্ছেন, স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। তবুও না খেয়ে থাকতে পারছেন না_এটাই নেশা।
ফেসবুক আপনার দিনের বিশাল সময় খেয়ে দিচ্ছে। ফেসবুকে থেকে আপনি আহামরি উপকার পাচ্ছেন না। নিজেই বিরক্ত ফেসবুকে এত সময় থাকা নিয়ে। তবুও ফেসবুকেই পড়ে আছেন। এটাই নেশা।
মোটামুটি প্রতিটা বিনোদনের মাধ্যমই যখন আপনাকে পরিচালনা করে সেটা নেশা হয়ে যায়। মনে করুন আপনি প্রতিদিন একটা সিনেমা দেখেন, সেটা নেশা নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন সিনেমা না দেখলে আপনার ভালো লাগে না। মনে হয় কী যেন নেই। এমন পর্যায়ে চলে এলেই সেটাকে নেশা বলা যায়।

অনেকে চায়ের নেশাকে নেশা মানতে চায় না। তা খেলে তাদের অমুক তমুক সমস্যা দূর হয়, বলতে চায়। কিন্তু এই চাহিদাটা কি সবার? নিয়মিত চা খাচ্ছে বলেই তো তার চা না খেলে সমস্যা হচ্ছে। চা খেলে সেটা দূর হচ্ছে। মাদকের নেশাটাও তো এমন। না খেলে শরীর খারাপ হয়ে যায়। খেলে শরীর ভালো লাগে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে দাবি করি, আমার কোনো নেশা নেই। সবই প্রয়োজন, পছন্দ বা ওষুধ।
যেমন ফেসবুকে আমি এত সময় দেই প্রয়োজনে। আমার অনেক মানুষ দরকার। আর সেটা পাওয়ার জন্য আমার লাইফস্টাইলে ফেসবুকই সবচেয়ে ভালো জায়গা। অফিসে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, নিজের এলাকাতেও আপনি মানুষ পাবেন। যেহেতু আমি জব বা পড়াশোনা করছি না, তাই সেগুলো আগেই বাতিল। এলাকার সমস্যা হচ্ছে এখানে আপনি ঠিক যেমন মানুষ চান তেমন ফিল্টার করা কঠিন। যেমন আপনার এলাকায় আপনি ১ হাজার জন বইপড়ুয়া খুঁজে বের করতে পারবেন না। কিন্তু ফেসবুকে একটা বইয়ের গ্রুপে অ্যাড হলেই পেয়ে গেলেন। সেখান থেকে কীভাবে আপনি নিজের পরিচিত মানুষ বাড়াবেন সেটা আপনার ব্যাপার।
অন্য যত জিনিসকে নেশা মনে হতে পারে ভেবেছি, সেগুলো সবই আমি ছেড়ে দেখেছি ভালোভাবেই থাকতে পারি।