
সংখ্যার প্রচলন প্রথমে কীভাবে হয় সেটা নিয়ে একটা গল্প আছে। প্রাচীনকালে যখন গৃহপালিত পশুকে বাড়ি থেকে বের করা হতো তার কোনো হিসাব থাকতো না। সন্ধ্যায় বাড়িতে আনলে সব পশু ফিরল কিনা তা বোঝার উপায় ছিল না। কোনো এতে করে কম হলে সে আবার খুঁজে নিয়ে আসতো।
এই পদ্ধতি অনেকের মনে ধরে যায়। তারাও একই উপায় অবলম্বন করতে থাকে। পরবর্তীতে পাথর বাদ দিয়ে দাগ কেটে হিসাব শুরু হলো। এভাবেই মূলত সংখ্যা গণনার শুরু।
আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনার বাসা কত দূরে, আপনি হয়তো বলবেন অনেক দূরে। আরেকজনকে যদি বলি তার বাসা কত দূরে সেও বলল অনেক দূরে। এখন আমি বুঝবো কীভাবে কার বাসা বেশি দূরে? আবার আপনার কাছে যেটা হেঁটে গেলে দূরে মনে হয়, আমি গাড়ি দিয়ে গেলে কাছেও মনে হতে পারে। তাই আমাদের একদম ঠিক দূরত্ব বোঝাতে সংখ্যার উপর নির্ভর করতে হয়। ৫ কি.মি. ১০ কি.মি আমরা একটা স্পষ্ট ধারণা পাই।

সংখ্যা এক ধরনের ভাষা। এটা দিয়ে আমরা নিখুঁতভাবে কোনো কিছু প্রকাশ করতে পারি। আপনার পাশ দিয়ে একটা ট্রেন গেল। আবার একটু পর আকাশ দিয়ে একটা প্লেন গেল। কোনটা বেশি শব্দ করেছে এটা নিয়ে আপনি হয়তো আপনার বন্ধুর সাথে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলতে পারেন। তবে আপনি যদি স্মার্টফোন দিয়ে দুইটা মেপে দেখিয়ে দিতে পারতেন তাহলে কোনো সন্দেহ থাকতো।যতই দিন যাচ্ছে ধারণা দূর করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা সংখ্যাকে আপন করে নিচ্ছি। সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মায়ের প্রচণ্ড কষ্ট হয়। এটা আসলে ঠিক কত আমরা ধারণা করতে পারতাম না। কিন্তু বর্তমানে ব্যথা মাপার কৌশল বের হয়েছে। এতে দেখা গেছে সন্তান প্রসবের সময় মা ৫৭ ডেল ব্যথা অনুভব করেন, যা এক সাথে প্রায় ২০টি হাড় ভেঙে যাওয়ার সমান ব্যথা। একটা হাড় ভাঙা তো দূরের কথা মচকে গেলেই আমরা আকাশ-পাতাল এক করে ফেলি। সেখানে এক সাথে ২০টি হাড় ভেঙে যাওয়ার মানে কল্পনা করা যায়!
কোনদিন কতটুকু বৃষ্টি হলো খুব সহজে বলে দেয়া যায়।
কার বুদ্ধি কেমন সেটা নিয়ে অনেক ঝামেলা লেগে যেত। আইকিউ টেস্ট আপনার বুদ্ধির পরিমাণ সংখ্যা দিয়ে আপনার হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। ইকিউ বলে আরেকটা জিনিস আছে। এটা দিয়ে কার আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ কেমন মাপা যায়। দেখা গেছে জীবনে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে আইকিউয়ের চেয়ে ইকিউয়ের ভূমিকা বেশি। তাই আজ থেকে বুদ্ধির চেয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশি মাথা ঘামান।
আপনার বন্ধুর জ্বর। থার্মোমিটার নিয়ে মেপে বের করে ফেলছেন তার অবস্থা। কিন্তু তার মন খারাপ থাকলে কিন্তু আমরা সবাই বুঝি না। কারণ এখনো এটাকে সংখায় আনা যায় নি। এক সময় হয়তো তাও করা যাবে।
পিথাগোরাস চেয়েছিলেন সবকিছুকে সংখ্যার ভাষায় প্রকাশ করতে। আজ তিনি বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন এটা দেখে যে সংখ্যার ব্যবহারে আমরা কত দূর এগিয়ে গেছি।