একমুখী শিক্ষা

একমুখী শিক্ষা

আমি যখন ক্লাশ এইটে পড়ি তখন শুনি আমাদের সময় থেকে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু হবে। মানে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা বলে আলাদা কিছু থাকবে না এসএসসি পর্যন্ত। আমি খুব খুশি হয়েছিলাম এই কথা শুনে। আমার মনে হত যদি একটা নেই তাহলে বাকি ২টায় যা শেখায় সেগুলো শিখতে পারবো না। সব একসাথে শিখতে পারলে সুবিধা।

শিক্ষা বিষয়ক যেকোনো কাজে বাংলাদেশে মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের কথা বেশ গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়। জাফর ইকবাল স্যার একমুখী শিক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নিলেন। পরবর্তীতে একমুখী শিক্ষার প্রকল্প বাতিল করা হয়। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম এতো ভালো একটা উদ্যোগ নিয়ে কী সমস্যা! বেশ কিছুদিন এটা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম।

আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো মনে করে একমুখী শিক্ষা দরকার। এর সমস্যা তুলে ধরতেই আজকে লিখতে বসলাম। আমার যেমন পরে ভুল ভেঙেছিল, সবার তেমন ভুল ভাঙা উচিত।

এসএসসি তে সব গ্রুপের ছাত্রদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ধর্ম, শারীরিক শিক্ষা পড়তে হয়। বাকি বিষয়গুলো নির্ভর করে কে কোন গ্রুপে পড়বে তার উপর। একমুখী শিক্ষা চালু হলে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ, ব্যবসায় পরিচিতি, ফিন্যান্স-ব্যাংকিং, ইতিহাস, অর্থনীতি, ভূগোল এতোগুলো বিষয় পড়তে হবে। সাথে কম্পিউটার, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান আছে। বিজ্ঞানের ছাত্ররা হয়ত এই চাপ নিতে পারবে। কিন্তু ব্যবসা ও মানবিকের ছাত্ররা কীভাবে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিতের চাপ নেবে!

এর সমাধান ২টি। এক. সব বইকে ছোট করে আনা। অথবা দুই. কয়েকটা বিষয় মিলিয়ে একটা বই বানানো। যেমন বিজ্ঞানের সব বিষয় নিয়ে সাধারণ বিজ্ঞান, মানবিকের সব বিষয় নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান (বা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)।

কিন্তু এই সমাধানের সাথে বড় একটা সমস্যা তৈরি হয়। সেটা টের পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকেরা। কেউ পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স করতে গেলে দেখবে এসএসসি, এইচএসসি তে যার যতটুকু বিজ্ঞান ও গণিত শিখে আসার কথা ছিল ততটুকু সে জানে না। কারণ মানবিক ও ব্যবসায়ের ছাত্রদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে তাকে বিজ্ঞান কম পড়ানো হয়েছে। এভাবে দুর্বল ভিত্তি নিয়ে তৈরি হবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার। যা দেশের আরও বেশি ক্ষতির কারণ হবে।
আরেকটা কথা হচ্ছে মানবিক ও ব্যবসায়ের ছাত্রদের জন্য ইতোমধ্যে সাধারণ বিজ্ঞান আছে। বিজ্ঞানের ছাত্রদের ক্ষতি করে সবাইকে একমুখী করার দরকার নেই। আবার বিজ্ঞানের ছাত্ররাও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পড়ছে। তাই একমুখী করে আসলে বিশেষ উপকার হচ্ছে না। বরং দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে

Posted in Uncategorized
Write a comment