
এই পোস্টের বিষয়বস্তু যে কী সেটা একদম শেষে না যাওয়া পর্যন্ত টের পাবেন না। টুইস্ট না থাকলেও প্রচুর শিফটিং আছে।
আমার লিস্টের বেশিরভাগ মানুষই দেখেছেন আমি এক সময় ‘সকালে খালি পেটে পানি খেয়েছেন’ হ্যাশট্যাগে পোস্ট করতাম প্রতিদিন।
ফেসবুকের বাইরেও এই জিনিসটার প্রচার করতাম এক সময়।
২০১২ সালে আমি সবেমাত্র কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছি। বন্ধু Tawhidur Rahman-ও সেখানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। আমরা এখানে ৬ মাসে এত এত এক্সপেরিমেন্ট ও কার্যক্রম চালিয়েছি যে কোচিংয়ের ১২ বছরে এতকিছু হয়নি।
প্রসঙ্গে সেটা না। সেখানে আমি তখন জনপ্রিয় টিচার। ছাত্রদের নানান টিপস দিতাম। ব্যক্তিগত প্রবলেম সলভ করতাম। ছাত্ররাও পেট খারাপ থেকে শুরু করে বাবা-মায়ের ঝগড়া সবই আমার সাথে শেয়ার করতো।
একদিন এক ছাত্র বললো ওর পেটে গ্যাসের সমস্যা হয় নিয়মিত; সহজে কী করতে পারে! আমি তো ডাক্তার না যে ওষুধ প্রেসক্রাইব করে দেবো। কিন্তু একটা ভালো উপদেশ দিতে তো বাধা নেই। ওকে বললাম প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খেতে। আশা করি গ্যাসের সমস্যা কমে যাবে।
আমি নিশ্চিত সেই ছাত্র টানা ৭ দিনও সকালে পানি খায়নি। ১ দিনও না-খেয়ে থাকলে অবাক হবো না। মানুষকে আসলে উপদেশ বা টিপস দিয়ে বদলানো যায় না। তার আগে থেকেই যা অভ্যাস আছে তাই করবে।

তাহলে মানুষ বদলায় কীভাবে?
২০১৩ সাল। ১ বছরের কিছুটা বেশি সময় পরে। আমি এক ছাত্রীকে বাসায় পড়াতাম। সে আগে ওই কোচিংয়েও পড়তো। মূলত আমাকে সেখানেই চিনেছে।
তো ছাত্রী আমাকে বললো সে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই ১ গ্লাস পানি খায়। কেন খায়? কারণ আমি বলেছি। কিন্তু আমি কখনও ওকে এই কথা বলিনি।
তখন ছাত্রী আমাকে ফ্ল্যাশব্যাকে ১ বছর আগের সেই কোচিংয়ে নিয়ে গেল। আমি যখন সেই ছাত্রকে সকালে পানি খাওয়ার টিপস দিচ্ছিলাম তখন ছাত্রী পাশ থেকে সেটা শুনেছিল। এরপর থেকে নিয়মিত এটা অনুসরণ করে আসছে।
তাহলে কী ঘটলো ব্যাপারটা? আমি বললাম একজনকে, সে করলো না। কিন্তু আরেকজনকে বলিনি, তবুও শুনে করা শুরু করলো।
এই ২ জনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে উপলব্ধিতে। আমাদের কখন কোন উপলব্ধি এসে পড়ে সেটা আমরা নিজেরাও বলতে পারি না। আপনি বর্তমানে যে কাজে সবচেয়ে বেশি সিরিয়াস সেটা হয়তো এক সময় করতেন না। কোনো একদিন হুট করে কোনো এক প্রভাবকের মাধ্যমে উপলব্ধিটা চলে এলো। তখন থেকে সেটাতেই সময় দিলেন।
আমরা জীবনে যত স্বপ্ন দেখি, লক্ষ্য নির্ধারণ করি তার বেশিরভাগই এমন অ্যাক্সিডেন্টাল উপলব্ধি থেকে চলে আসে। আপনাকে একশোবার বলেও হয়তো সেই কাজটা একবার করানো যেতো না। কিন্তু একবার উপলব্ধি চলে আসায় আপনি পরে একশোবার সেটা করেছেন।
এ কারণে মোটিভেশন জিনিসটাকে আমি খারাপ চোখে দেখি না। এটাতে বেশিরভাগ মানুষেরই কোনো কাজ হয় না। কিন্তু হুট করে কার কোন উপলব্ধি চলে আসে সেটাও তো বলতে পারি না।
আমার হ্যাশট্যাগ দেওয়া পোস্টে কয়জন পানি খাওয়ার অভ্যাস করেছে জানি না। কিন্তু যে করেছে সে তো আমার কারণেই শুরু করেছিল।