
হিন্দিতে একটা প্রবাদ আছে, “উপরওয়ালা যাব দেতা হ্যায় ছাপ্পার ফারকে দেতা হ্যায়।” এই প্রবাদের সাথে আরেকটা লাইন যোগ করা যায়, “যাব লেতা হ্যায় থাপ্পার মারকে লেতা হ্যায়।”
আমি আমার জীবনে অসংখ্যবার পেয়েছি এ প্রবাদের প্রমাণ। ২০১২ সালের শুরুতে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। নিজের ট্রিটমেন্ট করানোর টাকাতেও নেই। বন্ধুরা নিজেদের টাকায় ট্রিটমেন্ট শুরু করেছে আমাকে ধরেবেঁধে। আমিও ভাবতাম এই টাকা কি ইহজনমে আর শোধ করতে পারবো!
২০১২ সালের শেষেই হুট করে আমি একের পর এক টিউশনি পেতে লাগলাম। খাতা-কলম নিয়ে বসে হিসাব করতে হতো কবে কাকে সময় দিলে সবাইকে সময় দেওয়া যাবে। সব ঋন শোধ করে কিছু কোর্সের টাকাও অগ্রিম দিয়ে রাখলাম।
২০১৩ সালে আবার ভাগ্য পল্টি মারলো। অমুক স্টুডেন্টের তমুক সমস্যা, অমুক এলাকা ছেড়েই চলে যাবে। কেউ সায়েন্সে পড়বে না। শেষ পর্যন্ত দেখি আমার নিজেরই চলতে হিমিশিম খেয়ে যেতে হচ্ছে। এই সময়ই মূলত আমাকে চিরতরে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়।
২০১৪ সালে আবার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকলো। পারলে টর্নেডোর মতো ঘোরে। সাভার, মহাখালী, কাওলা সব জায়গায় টিউশনি। সাথে সাভারে ২টা কোচিংয়ে ৫টা ব্যাচের ক্লাস। যারা ৩টা এলাকা চেনেন তারা বুঝবেন আমাকে কী পরিমাণ বাসে চলাচল করতে হয়েছে প্রতিদিন। বাসায় ঘুমাতাম ৪ ঘণ্টা, বাসে ঘুমাতাম ২ ঘণ্টা। মহাখালী, সাভার ২ জায়গায় বাসা নিতে হয়েছে থাকার জন্য।

এই অবস্থা থেকে ২০১৫ সালের আমি পুরোপুরি বেকার হয়ে গেছি। শুনে বিশ্বাস না হতে চাইলেও এটাই হয়েছে। জমানো টাকা শেষ করে ২৯ হাজার টাকা ঋণ হয়ে গেছে।
এ বছরেরই মাঝামাঝিতে এসে আবার ৩টা টিউশনি ১টা ফুলটাইম জব। কোনটা রেখে কোনটা করি।
২০১৬ সালের শুরুতে আবার কিছুই নেই। ৪ মাস পর বড়ো জব পেয়ে গেলাম। ১০ মাসে ৫০ হাজার টাকাও জমিয়ে ফেললাম।
২০১৭ সালে নিজেই জব ছেড়ে দিয়ে বেকার। জমানো টাকা দিয়ে ৭-৮ মাস চলার পর জব খুঁজতে গিয়ে আর পাই না। সাথে আরও ৫টা ব্যক্তিগত সমস্যা এসে জুটলো। জীবনের সবচেয়ে বড়ো ডিপ্রেশনে পড়লাম।
২০১৮ সালে থেকে ২০২০ পর্যন্ত পুরোটাই প্রাপ্তির বলা যায়। করোনায় সবার অবস্থা খারাপ হলেও আমি বেশি ভালো আছি। ইনকামও খারাপ হচ্ছে না।
তবে আগের অভিজ্ঞতা বলে, ২০২১ সালে আমার জন্য খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।