আমার চিন্তাবেলা-৫

আমার চিন্তাবেলা-৫

একবার আমি একটা মোবাইল জিতে গেলাম ফোন কোম্পানির প্রমোশনাল অফার থেকে।

আমি তো বিরাট খুশি। জীবনে স্কুলে খেলাধুলা করে কোনো পুরস্কার পাই নি। এটা তো বিশাল ব্যাপার। তবে সেই মোবাইলটা কোনোদিন আমার হাতে পাই নি। না, তারা কোনো জালিয়াতি করে নি। দোষ আমার। তারা এসএমএস করছে “অভিনদন! আপনি একটি নোকিয়া ডুয়াল সিম হ্যান্ডসেট পেয়েছেন। অতিসত্বর কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন।”

আমি কথা খুব কম বলি। এবং কম বলতে পারি। ছোট বাচ্চা আর ঘনিষ্ঠ মানুষ ছাড়া আমার মুখ খোলে না। আগে বাসায় মেহমান এলে হয় ঘুমিয়ে থাকতাম, নয়তো দরজা আঁটকে বসে থাকতাম। আমি চিন্তায় পরে গেলাম কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে কীভাবে কী বলবো! ফোনে যদি কোনো মেয়ে কথা বলে তাহলে কী করবো? আমি মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারি না। ক্লাস টেনে থাকতে সমবয়সী মেয়েরা আমাকে নিয়ে মজা করতো। আমাকে বলতো মুরগির বাচ্চা। প্রচুর ভয় পেতাম তাদের। এমনকি আমার ছোটবোনদের সাথেও কথা বলতাম খুব কম।
প্রতিদিন ভাবতাম সাহস করে কল দেই। সরাসরি কাস্টমার কেয়ারেও যেতে পারি নি। তখন পারিবারিক কারণে খুব ব্যস্ততা ছিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফোনও ধরতে পারতাম না। আবার হাতে ফোন দেখলে আব্বা নিয়ে যেত। ১০/১৫ দিন রেখে দিত। ভাবতাম ওই ফোনটা পেলে এদিকেও সুবিধা হবে।

আজ না কাল করতে করতে দেড় মাস পার হয়ে গেল। আমি ফোন দিতে পারলাম না। একদিন দুপুরে রাস্তায় ছিলাম। এক কাজে যাচ্ছি। অনেক ভেবে তাদের ফোন দিয়েই ফেললাম। চিন্তায় হার্টবিট বেড়ে গেছে।

যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়। ফোন রিসিভ করলো এক মেয়ে। অনেক কাচুমাচু করে তাকে বোঝাতে সমর্থ হলাম যে আমি হতভাগা একটা মোবাইল জিতেছি অমুক অফার থেকে। যদি দয়া করে তারা বলে দেয় কীভাবে নিতে পারি! উনি জানালেন এই অফার তো বহুকাল আগেই শেষ। যারা মোবাইল পেয়েছে তারা অনেক আগেই তা নিয়ে পুরানও করে ফেলেছে। এতকাল পরে আমি মদন কোত্থেকে উদয় হলাম! তবু আমি তাদের কাস্টমার। কেয়ার তো একটু করতেই হবে। উনি উপরের লেভেলে আমার নাম্বার পাঠাচ্ছেন। আমি যেন আবার যোগাযোগ করি।

আমি আর জীবনে যোগাযোগ করার নাম নিলাম না। ফোন দিয়ে তোরা কুতকুত খেল।

এরচেয়েও হাই লেভেলের ঘটনা ঘটে তার এক বছর আগে।

আমাদের কলেজে একমাত্র আমি বায়োলজি বাদ দিয়ে কম্পিউটার নিয়েছিলাম। এইচএসসি পরীক্ষার প্র্যাক্টিক্যালের সময় ঝামেলায় পরে গেলাম। আমার সাথে অন্যদের রুটিন না মেলার কারণে আমাকে একা পরীক্ষা দিতে বলল অন্য কলেজের সাথে। সাভার ক্যান্টনম্যান্ট কলেজের যে হলে আমার পরীক্ষা হওয়ার কথা তাতে গিয়ে দেখি সব মেয়ে! সম্ভবত কোনো গার্লস কলেজ।

আমি পরীক্ষা না দিয়ে বাসায় চলে গেলাম।

কপাল ভালো ছিল। পরে এক স্যার আমাকে অনেক বকাবকি করে আরেকদিন পরীক্ষা নিলেন অন্যদের সাথে।

Posted in Uncategorized
Write a comment