
আপনার সাথে কি কখনও এমন হয়েছে?
একজনের সাথে অনেকদিন পর দেখা, কিন্তু তার নামটাই মনে করতে পারছেন না। এখন নাম জিজ্ঞেস করলেও একটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হবে।
এ সমস্যার আমি একটা সমাধান বের করেছিলাম। তার সম্পূর্ণ কী জানতে চাই। একজনের সম্পূর্ণ নাম সবার জানার কথা না। সে সরলভাবেই বলে দিবে। পুরো নাম আমার দরকার নেই। শুধু ডাকার মতো নাম পেয়ে গেলাম। বর্তমানে ফেসবুক আইডি কোনটা জানতে চাওয়া যায় লিস্টে না থাকলে।
অনেকে জিজ্ঞেস করে ফেসবুকে আমার নামের শুরুতে ‘এম এস আই’ কেন? ২০১০-১৪ এ সময়ে আমার সম্পূর্ণ নামই ছিল ফেসবুকে। এরপর সংক্ষিপ্ত করে নেই ব্যবহারের সুবিধার্থে। এখন প্রায় সবখানে এটাই দেই।
যখন কোনো বাচ্চা হলে দেখি বাপ-মা বিশাল নাম রেখে দিয়েছে, বাচ্চার জন্য আফসোস হয়। বড়ো হয়ে সে বাপ-মাকে দোষ দিবে এ নামের জন্য। আমি কারো নাম দিলে এসব চিন্তা করেই দেই। এমনকি ছোটো নাম হলেও সেটা বিকৃত করে যেন সহজে পচানো না যায়।
বড়ো নাম নিয়ে সবচেয়ে অপমানজনক কথা শুনেছিলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইবেরির সদস্য হতে গিয়ে। আমাকে বলেছিল, “আপনার নাম দেখি ভারতের মানচিত্রের মতো বড়ো!”

জাফর ইকবালের ‘বিজ্ঞানী অনিক লুম্বা’ বইটা পড়েছেন? সেখানে এক লোক ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে বলে, “ভাই, আমার নাম তো অনেক লম্বা।” ভুলে ফর্ম পূরণকারী ভেবেছে নাম অনিক লুম্বা!
বড়ো নাম বহন করার কী যন্ত্রণা সেটা সবচেয়ে ভালো টের পাওয়া যায় বিভিন্ন ফর্ম পূরণ করতে গিয়েই। সেখানে একটা বানান ভুল হয়ে গেলে খবর আছে!
বড়ো নাম মনে রাখা যেমন কঠিন, তেমনি একবার মনে রাখলে ভুলে যাওয়াও কঠিন। বাঁশেরকেল্লা বানানো তিতুমীরের আসল নাম মনে আছে সবার? অল্প কয়েকজন বলতে পারলেও, বেশিরভাগই ভুলে গেছেন। কিন্তু ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির নাম কি ভুলতে পারেন? অথচ দুটোই কিন্তু স্কুলে থাকতে পড়েছিলেন।
কোনো এক অদ্ভুত কারণে আমার মানুষের সম্পূর্ণ নাম মনে থাকে। পেলের পুরো নাম সেই ২০০২ থেকেই মনে আছে। ২০-২৫ বছর আগে প্রাইমারি স্কুলে যাদের সাথে পড়তাম তাদের অনেকের পুরো নাম এখনও বলতে পারি।
আরও ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে বেশিরভাগ ক্লোজ ফ্রেন্ডের বাপ-মায়ের নাম মনে আছে আমার। চাইলে কমেন্টে কেউ টেস্ট করে দেখতে পারে। শুধু যাদের বাবা-মায়ের নাম শুনিনি কখনও তাদেরটা বলতে পারবো না। বাকি প্রায় সবারটা পারবো।
এই আমারই আবার বই-সিনেমার ক্যারেক্টারের নাম মনে থাকে না। অনেক প্রিয় ক্যারেক্টারেও নাম বলতে পারবো না। এমনকি বই পড়ার ১ মাসের মধ্যে কাহিনিই মনে থাকে না। ওদিকে ১৫ বছর আগে পড়া অনেক বইয়ের কোনটা কোন প্রকাশনী থেকে এসেছে সেটা মনে আছে। মুভিটা কত সালে রিলিজ হয়েছিল বলতে পারি।