অতীত মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে স্থান পালটানো

অতীত মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে স্থান পালটানো
ছোটোবেলা থেকেই বাসা চেঞ্জ করা আমার কাছে খুব প্যারাদায়ক কাজ মনে হয়। কারণ কয়েকটা-
১. এতদিন যে বাসায় অভ্যস্ত হয়েছি সেখান থেকে নতুন বাসায় অভ্যস্ত হওয়া লাগবে।
২. জিনিসপত্র প্যাকেট করা। আবার নতুন বাসায় নিয়ে গোছানো।
৩. ভারী জিনিস টানাটানি করে হাত-পা ব্যথা করা। কয়েক তলা ওপরে বাসা হলে তো কথাই নেই।
৪. টানাটানি করতে গিয়ে জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
তবে ভাগ্য ভালো যে ছোটো থেকে কলেজ পর্যন্ত সবমিলিয়ে মাত্র ৩ বার চেঞ্জ করতে হয়েছে।
সমস্যা হয়েছে কলেজের পর থেকে। গত ১২ বছরে প্রায় ১০-১২ বার বাসা চেঞ্জ করতে হয়েছে। বিরক্ত হয়ে অনেক কিছু নতুন বাসায় আনিও না।
এত বাসা চেঞ্জ করার প্রধান কারণ ছিল শুরুর দিকে ছিল স্ট্যাবল জব না থাকা। ফলে যে এলাকায় জব হয়েছে সেখানে বাসা সুইচ করতে হয়েছে। এরপর বিজনেস শুরু করলাম। বিজনেস বড়ো করলে বড়ো বাসা নেওয়া লাগে। আবার অফলাইনের কাজ কমিয়ে আনলে ছোটো বাসা নেওয়া লাগে।
বাসা চেঞ্জ করা নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা বললেও একটা খুবই ভালো দিক আছে। আর এটাই সম্ভবত একমাত্র ভালো দিক। শরৎচন্দ্র বলেছেন, “অতীত মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে স্থান পালটানো।”
যে বাসায় থাকতে আপনার খারাপ মেমোরি তৈরি হয়েছে সেখান থেকে সরতে পারলে কষ্ট কমতে সাহায্য করে। নইলে আগের বাসার বিভিন্ন উপাদান খারাপ জিনিস মনে করিয়ে দেয়। ধরুন, একসময় একজনের সাথে আপনার খুব কথা হতো। এরপর ছেড়ে চলে গেছে। যে রুমে বসে তার সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন সে রুমে থাকলে বার বার স্মৃতিকাতর হয়ে পড়বেন।
আমার নিজের ক্ষেত্রেও বাসা চেঞ্জ করা ভালো কাজে দিয়েছে। ফ্যামিলির অনেক মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। ২০২০ সালে ৩ জন ফ্রেন্ড হারিয়েছি। সেই ধাক্কা কাটাতে দেড় বছর লেগেছে। বাসা চেঞ্জ না করলে হয়তো আরও বেশি সময় লাগত।
Posted in Uncategorized
Write a comment