হারানো মানুষ

হারানো মানুষ
দুটো জিনিস আমি আজীবন খুঁজে বেড়াতে পারি; হারানো গান এবং হারানো মানুষ।
আমাদের সময় স্কুলের ফ্রেন্ড এলাকা ছেড়ে চলে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যেতো না। বেশিরভাগেরই বাসায় ফোন ছিল না। আবার এলাকা চেঞ্জ করলে ল্যান্ডফোনের নাম্বারও চেঞ্জ হয়ে যেতো।
এক ফ্রেন্ড ঢাকা থেকে গাজীপুর চলে গিয়েছিল। যাওয়ার আগে শুধু বলেছিল বাসা কোন এলাকায়, একটা কবরের সামনে দিয়ে যেতে হয়, বাসায় নীল গেট।
ওকে আমি অনেক মিস করতাম। গাজীপুর যাওয়ার ৫-৬ মাস আগে থেকেই রাতে কান্নাকাটি করতাম যে এক সময় চলে যাবে।
একদিন ঠিক করলাম ওর বাসা গিয়ে খুঁজে বের করবো। তখন আমি বাসে একা তেমন চড়তে পারতাম না। উঠতে গিয়ে পড়ে যেতাম, নামতে গিয়ে হাত-পা ছিলতাম। তাও সাহস করে জীবনের প্রথম একা গাজীপুর চলে গেলাম।
সাগরে মুক্তা খোঁজা না হলেও খড়ের গাঁদায় সুই খোঁজার মতো ব্যাপার ছিল। রোদে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত। নীল গেট দেখলেই মনে হয় সেই বাসা। কোনো লোক দেখলেই মনে হয় ফ্রেন্ডের বাপ। কবর দেখলেই খুঁজি কাছাকাছি কোথাও নীল গেট আছে কি না।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়। বিরক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম বাসায় ফিরে আসবো। এখন বাসস্ট্যান্ড খুঁজে পাই না।
বাসস্ট্যান্ড খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথেই একটা ক্লু পেয়ে গেলাম। সেটা ধরে ৫ মিনিট হাঁটতেই পেয়ে গেলাম কবরস্থান। সেখান থেকে ১ মিনিট হেঁটে নীল গেট। গেটে ঢুকতেই দেখি ফ্রেন্ডের মা।
ফ্রেন্ড আর ওর পুরো ফ্যামিলি অবাক আমাকে দেখে।
Posted in Uncategorized
Write a comment