ধাঁধার সূত্র

ধাঁধার সূত্র
২০০৫ সাল। তখন ক্লাস এইটে পড়ি। ক্লাসমেট Mehedi কোন এক স্কুলের ম্যাগাজিন নিয়ে এলো ক্লাসে। আমাদের স্কুলে কোনো ম্যাগাজিন ছিল না। তাই এমন কিছু দেখে খুব আগ্রহ হলো। সেখানে একটা গাণিতিক ধাঁধা ছিল।
এমন একটা সংখ্যা আছে, যে সংখ্যাকে ১০ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৯ হবে; ৯ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৮ হবে; ৮ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৭ হবে; ৭ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৬ হবে; ৬ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৫ হবে। ৫ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৪ হবে; ৪ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ৩ হবে; ৩ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ২ হবে, ২ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ১ হবে; ১ দিয়ে ভাগ করলে যথারীতি ভাগশেষ ০ হবে।
সংখ্যাটা বলতে হবে।
ধাঁধাটা ম্যাগাজিনে যে দিয়েছিল সে এটাও চ্যালেঞ্জ করেছে সেই স্কুলের কোনো ছাত্র এটার সমাধান করতে পারবে না।
ছোটোবেলা থেকে গণিত আমার পছন্দের বিষয়। আবার প্রবলেম সলভ করতে মজা লাগে। সেই সাথে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে পাল্টা জবাব দিতে পারলে আনন্দ পাই।
মেহেদিকে বললাম, একদিনের জন্য ম্যাগাজিনটা আমাকে দে। আমি এটার সমাধান বের করবো।
সেদিন ক্লাসের কোনো পড়ায় আমার মনোযোগ নেই। ছুটির পর বাসায় এসেও খেলতে যাওয়ার আগ্রহ নেই। খাতা-কলম নিয়ে পড়ে থাকলাম সমাধান খুঁজতে। এভাবে রাত ১১টা বেজে গেল। পরেরদিনের কোনো হোমওয়ার্ক করিনি। স্কুলে গিয়ে শাস্তি পাবো নিশ্চিত।
১১টার দিকে কারেন্ট চলে গেল। প্রচুর গরম তখন। আমি ঢুকলাম গোসল করতে। মাথায় ২য় মগ পানি ঢালতেই মিলে গেল আমার অংক। তাড়াতাড়ি গোসল শেষ করেই চার্জার লাইটের আলোতে খাতা-কলম নিয়ে বসলাম। যাচাই করে দেখলাম সংখ্যাটা আসলেই পেয়ে গেছি।
সকালে স্কুলে গিয়ে মেহেদিকে ম্যাগাজিন দিয়ে, বললাম সমাধান তো করে ফেলেছি। তারপর ওকে পুরোটা করে দেখালাম।
মনে পড়লো সেই ছেলের চ্যালেঞ্জের কথা। বলেছে স্কুলের কোনো ছাত্র এটা করতে পারবে না। আমার মনে হলো নাইনে উঠে সেই স্কুলে ভর্তি হয়ে যাই। তারপর ওই ছেলেকে গিয়ে বলি, আমি করে ফেলেছি।
যদিও পরের বছর আমাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করা হয়, কিন্তু এই ধাঁধাটা আমি বিভিন্ন সময় আমার ক্লাসমেট এবং ছাত্রদের দিয়েছিলাম। আজ পর্যন্ত মাত্র দুজন পেয়েছে।
২০০৭ সালে যখন টেনে পড়ি তখন ক্লাসমেট Ronnie এটার একটা সমধান বের করে। ২০১৪ সালে কোচিংয়ের ছাত্রী Masuma সমাধান করে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে যদিও সংখ্যাটা একই, কিন্তু আমরা তিনজন আলাদা ৩ পদ্ধতিতে করেছি। আসলে গণিত ও সমস্যার মজাটা এখানেই। গন্তব্য একটা হলেও রাস্তা অনেক হতে পারে। প্রত্যেকটাই ঠিক হতে পারে।
ওরা দুজন ম্যানুয়েলভাবে হিসাব করে সংখ্যাটা বের করেছে। আমি আবার একটা ইউনিভার্সাল সূত্র বানিয়ে ফেলেছিলাম। ১০ এর জায়াগায় যদি একশো দশও দেওয়া হয় তাহলেও চট করে বের করে ফেলা সম্ভব।
সমস্যার সমাধান আসলে অনেক আনন্দের। ১০টা সিনেমা দেখেও হয়তো এত আনন্দ পাওয়া যায় না। এই কারণে আমার কাছে বিনোদনের প্রধান উৎস প্রবলেম সলভিং। সিনেমা, বই, ঘোরাঘুরি কোনোটাই বিনোদন লাগে না।
Posted in Uncategorized
Write a comment