আমি আজীবন হারানো মানুষ আর গান খুঁজে বেড়াই

আমি আজীবন হারানো মানুষ আর গান খুঁজে বেড়াই
গতকাল বলেছিলাম আমি আজীবন হারানো মানুষ আর গান খুঁজে বেড়াই। আজকে বলবো গান খোঁজার ব্যাপারে।
২০০২ সালের দিকে। টিভিতে শাহরুখ খানের একটা সিনেমা দেখেছিলাম। নাম জানতাম না। কিন্তু সিনেমার একটা মিউজিক খুব ভালো লেগে যায়। এরপর আর সেই সিনেমাও টিভিতে দেখায় না। মিউজিকও শুনতে পারি না। নাম না জানায় খুঁজতেও পারি না। শাহরুখ খানের অনেক অনেক সিনেমা, কোনটায় যে সেই গান।
২০০৩ সালের বিশ্বকাপের সময় একটা সিমেন্টের বিজ্ঞাপনে সেই একই মিউজিক পেলাম। খেলা দেখার সময় অধীর আগ্রহে বসে থাকতাম কখন আবার সেই অ্যাড দিবে, মিউজিকটা শুনতে পাবো।
বিশ্বকাপের পরে সেই বিজ্ঞাপন টিভিতে আর তেমন দিতো না। মিউজিকও শুনতে পারতাম না। শুধু মিউজিক না হয়ে সাথে কথা থাকলে গানটা বের করে ক্যাসেট কিনে শুনতে পারতাম।
২০০৪ সালে ক্লাসে আমি, রনি, আবিদ সিনেমা নিয়ে অনেক কথা বলছিলাম। তখন শাহরুখ খানের ম্যায় হু না অনেক জনপ্রিয়। আবিদের সেটা অনেক প্রিয়। রনি বললো শাহরুখ খানের সব সিনেমা দেখেছে ও। তখন মাথায় চিন্তা এলো, তাহলে তো শাহরুখের সেই সিনেমার ব্যাপারে রনিকে জিজ্ঞেস করে নাম জানার চেষ্টা করা যায়!
রনিকে সিনেমের বিচ্ছিন্ন কিছু দৃশ্যের কথা বলতে থাকলাম। আবিদও বললো এমন সিনেমা দেখেছে কিন্তু নাম জানে না। ১ মিনিটেরও কম সময়ে রনি বলে দিলো সিনেমার নাম ‘কয়লা’।
আমাকে আর কে পায়! ওইদিনই সন্ধ্যায় গেলাম সিডির দোকানে। কয়লা সিনেমার সিডি ভাড়া নিয়ে এলাম ৫ টাকা দিয়ে। বাসায় এসে দেখি আসলেই এই কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়ে গেছি আমি। বার বার টেনে দিয়ে সেই মিউজিক শুনতাম। সিডি বাসায় রাখার নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল। তারও দিগুন রেখে ভাড়া ১০ টাকা দিয়েছিলাম।
আরও বড়ো হয়ে যখন ইন্টারনেট যুগে প্রবেশ করলাম, সেই মিউজিক আসলেই কার বানানো বের করলাম_ভ্যাঞ্জালিস। মিউজিকের নাম ‘কংকোয়েস্ট অব প্যারাডাইস’। কয়লা সিনেমায় সেটা চুরি করে ব্যবহার করা হয়েছে জানতে পারলাম।
পরে ভ্যাঞ্জালিসের যত সুর আছে অ্যালবাম ধরে ডাউনলোড করে শুনেছি। অনেকগুলোই অনেক প্রিয়। এখনও প্রায়ই শুনি। সারা জীবনে ১৫-২০ টা ভাষার কয়েক হাজার গান শুনেছি। কিন্তু এখনও যদি বলা হয় আমার প্রিয় গান বা মিউজিক কোনটা, আমি ‘কংকোয়েস্ট অব প্যারাডাইস’ এর নামই বলবো।
Posted in Uncategorized
Write a comment