
স্কুল-কলেজে থাকতে আমাদের একই টেক্সট বই পুরো এক বছর পড়া লাগত। এটা সবার ক্ষেত্রেই সত্যি।
তো কলেজে উঠে আমি একটা জিনিস করলাম। যেহেতু নিয়মিত বই খুলতে হয়, তাই বইয়ের কভারের ভেতরের খালি জায়গায় এমন কিছু লিখে রাখবো যেটা ভুল চাই না। নিজেকে বার বার মনে করাতে চাই।
দেখা যেত কেমিস্ট্রি বইয়ের ভেতরে বাংলা বর্ণমালা সব লিখে রেখেছি। কারণ বড়ো হয়ে আমরা সিরিয়ালে সেটা বলতে পারি না। ফিজিক্স বইয়ে লেখা ছিল বিখ্যাত একটা প্রবাদ, “ভাবিয়া করিয়ো কাজ, করিয়া ভাবিয়ো না।”
জীবনে আফসোস খুবই কম আমার। কারণ একটা কাজ করার আগে অনেকবার ভাবি। কিন্তু কাজ করার পর সেটা নিয়ে আর তেমন ভাবি না। কারণ যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। যখন হওয়ার কথা তখন যেটা বেস্ট মনে হয়েছে সেভাবেই করেছি।
হয়তো পরে অভিজ্ঞতা বাড়ায় জিনিসটা আরও ভালোভাবে করা শিখেছি। কিন্তু যখন করেছিলাম তখনকার অভিজ্ঞতায় সেরাটাই করেছিলাম। আফসোস করার কিছু নেই। বরং সামনে কীভাবে আরও নির্ভুল থাকা যায় সেটা নিয়ে ভাবা দরকার।
আফসোস কমানোর জন্য দূরদর্শিতা থাকা জরুরি। সাময়িক আবেগের সিদ্ধান্ত, কাজই মানুষকে পরে ভোগায়। এটা আপনি-আমি সবাই জানি। কিন্তু প্র্যাক্টিস করি না।
কিছু ব্যাপার মানুষ করে পারিপার্শ্বিক চাপে। আপাতত ব্যাপারটা সামাল দেওয়ার জন্য কিছু একটা করে ফেলে। কিন্তু লংটার্মে সেটা নিয়ে নিজেকেই ভুগতে হয়।

এজন্য আমি অন্যের পরামর্শ নেই। সেটা নিয়ে ভাবি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেই নিজেই। ছোটোবেলা ফ্যামিলি আশেপাশের মানুষ আমার অনেক সিদ্ধান্তকে ভুল বলেছে। তাদের কথা শুনতে বলেছে। কিন্তু এত বছর পর এসে টের পাই ঘাড়ত্যাড়ামি করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে খুবই ভালো করেছি। বরং তাদের কথা শুনলেই খারাপ হতো।
এখন এ ব্যাপারে কনফিডেন্স তাদেরই কম থাকে যারা সীদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। সেটা কীভাবে দূর করা যায়?
আমি কীভাবে দূর করেছি বলি। আমার কাছে প্রতিটা জিনিসের প্রায়োরিটি লিস্ট থাকে। প্রিয় মানুষ, প্রিয় বই, প্রিয় সিনেমা, প্রিয় গান, প্রিয় প্লেয়ার। ২টা জিনিসের মধ্যে একটা চুজ করতে দিলে আমার বেশি সময় লাগে না।
মানুষ এ জিনিসটা করতে চায় না। মনে করে দুটোই প্রিয়, একটাকে আগে রাখবে কেন! কিন্তু আগে-পরে রাখাই আমাদের ক্লিয়ার কনসেপ্ট দেয় যেকোনো ব্যাপারে। ব্রেইন এমনভাবে ট্রেইনড হয় যে অন্যান্য ব্যাপারেও ক্লিয়ারলি ভাবতে পারি।