
আজকে এক ফ্রেন্ড জাপানে বসে পোস্ট দিয়ে আক্ষেপ করছে; সেখানে আম-কাঁঠাল খেতে পারছে না। আচ্ছা বাংলাদেশে যদি স্ট্রবেরির চাষ হতে পারে তাহলে জাপানে কেন কাঁঠালের চাষ হয় না?
কিছুদিন আগে আরেকজনের সাথে কথা হচ্ছিল, বাংলাদেশে চাইনিজ খাবার পাওয়া যায়, কিন্তু চায়নাতে কেন কাচ্চি পাওয়া যায় না?
এখানেই চলে আসে কান্ট্রি ব্যান্ড্রিংয়ের ব্যাপার। বাংলাদেশে চাইনিজরা এসে নিজেদের খাবার পরিচিত করেছে। ২০-২৫ বছর আগে দেশে হাতেগোনা কয়েকটা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল। কেউ চাইনিজ খেতে গেছে শুনলে আমাদের চোখ কপালে উঠে যেত। এখন কিন্তু শহরের অলিতেগলিতে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। বেশিরভাগেরই মালিক বাঙালি।

কেএফসি, পিজ্জা হাট বাংলাদেশে আসার পর অসংখ্য দোকান হয়েছে যেখানে ফ্রাইড চিকেন আর পিজ্জা পাওয়া যায়। এগুলোর মালিকও কিন্তু বাঙালিরা।
বাঙালিরা দেশের কয়টা জিনিস দেশের বাইরে প্রচার করেছে? আজকে যদি জাপানে কেউ নান্নার কাচ্চি বিক্রি করে তাহলে জাপানিজরা অল্প সময়েই এই জিনিসের ভক্ত হয়ে যাবে। সেখানে কাচ্চির চাহিদা তৈরি হবে। অসংখ্য কাচ্চির রেস্টুরেন্ট হবে।
অনেকদিন আগে ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখেছিলাম, ৫০ জন আমেরিকানকে একটা আম আর ছুরি হাতে দিয়ে বলা হয়েছে সেটা ভালোভাবে কাটতে। প্রায় অর্ধেকেরই গলদঘর্ম হয়ে গেছে আম কাটতে।
এ ঘটনা ইঙ্গিত করে যে তারা আমের সাথে তেমন একটা অভ্যস্ত নয়। অথচ বাংলাদেশে যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় তার সবচেয়ে প্রিয় ফল কী, তাহলে প্রায় সবারই পছন্দের ৩টা ফলের মধ্যে আম থাকবে। এত ভালো একটা ফলকে আমরা ব্র্যান্ডিং করতে পারিনি।
বাংলাদেশের যেসব অল্প কিছু খাবার বিদেশে পাওয়া তার প্রায় সবই ইন্ডিয়ান খাবার হিসেবে পরিচিত। ব্র্যান্ডিংয়ের কাজটা তারাই যতটুকু করেছে।
পৃথিবীর মানুষ আমাদের চিনবে কী, আমরা নিজেরাই বেশিরভাগ জায়গায় নিজেদের ‘ইন্ডিয়ার পাশের দেশ’ হিসেবে পরিচয় দেই।