আমার চিন্তাবেলা-৬

আমার চিন্তাবেলা-৬

আমি আমার মাকে অপছন্দ করি।

মা নিজে বেছে নেয়ার সুযোগ থাকলে আমি আমার এক বন্ধুর মাকে নিতাম। উনার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে সবাইকে নিজের সন্তানের মতো ভাবার চেষ্টা করেন। আমার মা আমাকে অনেক ভালবাসে, কিন্তু সবার জন্য সেটা নেই।

আমার মা একেবারে খারাপ না। অনেক ভালো গুণ আছে তার। অনেক দানশীল। মানুষের উপকারও করে। কিন্তু সুযোগ পেলে আবার তাকে খোটা দেবে। দেখতে অনেক সুন্দর বলে তার মধ্যে অহঙ্কার। সুযোগ পেলেই মানুষকে ছোট করে। আমার বাবা-মা একজন আরেকজনের সবচেয়ে বড় শত্রু। আম্মা এমন কোনো দিন নেই কমপক্ষে দুই-এক ঘণ্টা আব্বার দুর্নাম করবে না অন্যদের কাছে। আব্বার সাথে আমাদের কারো সম্পর্ক ভালো না। তবু সারাদিন আম্মার ঘ্যানর ঘ্যানর সহ্য হয় না। আব্বা অসুস্থ থাকলে যেন তার জন্য ঈদের আনন্দ। আমার জীবনের সবচেয়ে নেগেটিভ চরিত্র আমার বাবা। তবু আম্মার এমন অমানবিক আচরণ আমি মানতে পারি না।

তার অন্য সব ব্যাপার মেনে নিতে পারলেও অন্তত একটা বিষয়ে আমার আজীবন অভিযোগ থাকবে। সেটা হচ্ছে আমার মা আমাকে আমার বোনদের চেয়ে বেশি ভালোবাসে, বেশি গুরুত্ব দেয়।

শুধু রক্তের সম্পর্কের প্রাধান্য আমার কাছে কখনোই ছিল না। আমি মনে করি সম্পর্ক মানুষ নিজের মতো করে গড়বে, জন্মগতভাবে বাধ্য হয়ে নয়। তবুও আমি গর্ববোধ করি আমার বোনদের নিয়ে।

 


ছেলে বলে আমার মা আমাকে তার স্নেহ, ভালোবাসা, দরদ উজাড় করে দিয়েছে। ভালো কথা। কিন্তু মেয়ের সাথে তার আচরণ সৎ মায়ের মতো। পদে পদে খোটা, দোষারোপ, অবহেলা। একজন মা কেন এমন বৈষম্য করবে! ছেলে তার চোখের মণি, মেয়ে কেন চোখের বিষ?

আমারদের সমাজে মেয়েরা নাকি নির্যাতিত। কিন্তু একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায় এই নির্যাতন যতটা পুরুষ দ্বারা, তার চেয়ে বেশি নারী দ্বারা। শাশুড়ি দ্বারা বউ যত নির্যাতিত হয়, শ্বশুর দ্বারা কিন্তু তত না। স্বামীর ভাইয়েরা নয় বোনেরাই সংসারে বড় শত্রু হয়। অনেক লোক তার স্ত্রীকে ভুল বোঝে অত্যাচার করে তার মা কিংবা বোনের প্ররচনাতেই। একজন সফল পুরুষের পেছনে নাকি একজন নারীর হাত থাকে। অথচ একজন নারীর সাফল্য দেখে আরেক নারী ঈর্ষান্বিত হয়। অধিকাংশ মেয়েরাই আরেক মেয়ের ভালো সহ্য করতে পারে না।

শুধু আমার মা নয়, আশেপাশে এমন আরও মাকে দেখেছি যারা নিজের মেয়েদের সারাদিন ছোট ছোট কারণে গালাগালি করছে, অথচ ছেলে বড় অন্যায় করলেও সাত খুন মাফ।

আমার বোনকে তার প্রাপ্য স্নেহটুকু না দিয়ে আমাকে বেশি করে দেয়া; এই ভালোবাসা আমি কখনোই সুনজরে দেখব না। ধিক তোমার বৈষম্যমূলক মাতৃত্বকে।

আমার জন্য অনেক কষ্ট-ত্যাগ করেছ। আমি চির ঋণী। কিন্তু তুমি ভালো মা কিংবা মানুষ হতে পারো নি।

Posted in Uncategorized
Write a comment