আমার চিন্তাবেলা-২

আমার চিন্তাবেলা-২
২০০৪ সালটাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়।

আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। পাগল ছিলাম ক্রিকেটের জন্য। বাসা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়ে খেলতাম। ২০০৪ এর জানুয়ারির ৫ তারিখ আমার পরীক্ষা ছিল বিকেএসপিতে। ফিটনেস এবং ব্যাটিং তাদের পছন্দ হয়েছিলো; আমি বাদ পড়ি দৌড়ের গতি কম থাকার কারণে। ৮০০ মিটার দৌড়ে আমাদের গ্রুপের ১০ জনের মধ্যে ৭ম হই।

ক্লাস ফাইভ থেকেই কবিতা লিখতাম। তবে আমার সব কবিতা ছিল ক্রিকেট নিয়ে! ২০০৪ থেকে কবিতার বিষয় পাল্টানো শুরু করলো। জীবন, দারিদ্র্য, আনন্দ, দুঃখ কবিতায় আসতে থাকলো। এই বছরই প্রথম গল্প লেখা শুরু করি। কয়েকটা গল্প লেখার পরেই হাত দেই “সানহো” সিরিজে। ধীরে ধীরে লেখক হওয়ার ইচ্ছা বেড়ে ওঠে।

প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে ব্যায়াম করতাম। এক বইতে শক্তি বাড়ানোর দোয়া পেলাম! সুযোগ পেলেই সেই দোয়া পড়তাম।

সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের স্কুলে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনের ক্যাম্পেইন হয়। অনেকেই পুরো পরিবার নিয়ে ভ্যাকসিন নিতে এলাম। সারা স্কুলে দুইজনের হেপাটাইটিস বি ধরা পড়ে। এর মধ্যে একজন আমি।


ডাক্তার বলল কোনো পরিশ্রমের কাজ করা যাবে না। খেলাধুলা বাদ দিলাম। আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে ব্যাট বানিয়ে রিকশার বেয়ারিংয়ের বল দিয়ে ঝাড়ুর কাঠি দিয়ে স্ট্যাম্প বানিয়ে ঘরের মেঝেতে দাগ কেটে একা একা ক্রিকেট খেলতাম।

সকালে দেরি করে উঠতাম। তারপর স্কুল। আর বাইরে যাওয়া নেই। স্কুল না থাকলে ঘরের বাইরে পা রাখা হতো না। মোটা হয়ে গেলাম অনেক।

সারাদিন শুয়ে থাকার কারণে রাতে ঘুম আসতো না। আমার রাতের প্রতি টান তখন থেকে শুরু হয়। প্রতি রাতে একেকটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করতাম। অনেক বড় বড় বিষয় নিয়ে চিন্তা। অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতাম। বের করে ফেললাম সুখী হওয়ার রহস্য। আমি এখন টের পাই সেই সময়টা আমার জন্য উপহার ছিল। জীবনের অনেক গভীর ব্যাপার আমি বুঝতে পারি যেটা চোখের সামনে কাউকে দেখি না। আমার চেয়ে সুখী মানুষ আমি জীবনে দেখি নি।

আমার মনে পড়ে নামাজ পড়ে আমি কখনো নিজের সুস্থতা নিয়ে প্রার্থনা করি নি। আমি চাইতাম পৃথিবীর সবাই যেন আমার মতো সুখী হয়।

এরপর থেকেই ভাবতে শুরু করলাম কীভাবে সবাইকে সুখী করা যায়। জীবনের লক্ষ্য দিন দিন বড় হতে থাকলো।

Posted in Uncategorized
Write a comment