গণিত ক্লাশ-৪ (ভবিষ্যৎবাণী)

গণিত ক্লাশ-৪ (ভবিষ্যৎবাণী)

সিডর, আইলা, মহাসেন আসার ১০-১৫ দিন আগেই আবহাওয়াবিদরা বলে দিল এগুলো বাংলাদেশে আঘাত হানবে। যখন আমরা দেখছিলাম ঝকঝকে আকাশ তারা কীভাবে এই কথা বলতে পারল? তারা কি ভবিষ্যৎ দেখতে পারে?

দেখি আমরাও পারি কিনা!
২, ৬, ১০, ১৪ __ এর পরের সংখ্যাটা কত হবে?
আগে থেকে যদি ধারা বা প্যাটার্ন সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকে তাহলে নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারবেন। ধারণা না থাকলেও একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন এরপর ১৮। কীভাবে হল? প্রত্যেকবার ৪ করে বাড়ছে।
এবার বলুন ২, ৪, ৮, ১৬ __ এর পরে কত হবে?
অনেকেই মুহূর্তের মধ্যে বলে দিতে পারবে। বাকিরা একটু চিন্তা করলেই বের করে ফেলবে প্রত্যেকবার দিগুণ হচ্ছে। তার মানে পরের সংখ্যা হবে ৩২।
এটা দেখি কে কে পারে! ৩, ৫, ৮, ১২, ১৭ __ এখন কত?

কঠিন লাগছে? দেখুন প্রথমে বাড়ল ২, তারপর ৩, ৪, ৫ করে। এতক্ষণে বুঝে ফেলার কথা পরের বার ৬ বাড়বে। ১৭+৬= ২৩।
কঠিন একটা দেই। ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩ __ পরের সংখ্যা কত?

এই পর্যায়ে অনেকেই আঁটকে যাবে। তবে কেউ কেউ পারবে। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ধারা_ ফিবোনাকি ধারা। এখানে প্রত্যেকবার আগের দুই সংখ্যা যোগ হয়ে পরের সংখ্যা হচ্ছে। ১+১=২, ১+২=৩, ২+৩=৫, ৩+৫=৮, ৫+৮=১৩। তাহলেই বলতেই পারি পরের সংখ্যা হবে ৮+১৩=২১।

আরও কঠিন একটা দেই।
২, ৫, ১০, ১৭, ২৬ __ তারপর কত?
এখানে দুটি প্যাটার্ন পাওয়া যায়। প্রথমে বাড়ল ৩, এরপর ৫, ৭, ৯। বোঝা যাচ্ছে পরেরবার ১১ যোগ হবে। তার মানে ২৬+১১= ৩৭।

বলেছিলাম এখানে দুটি প্যাটার্ন পাওয়া যায়। এটাকে আরেকভাবে করা সম্ভব। ১, ২, ৩, ৪, ৫ সংখ্যাগুলোর বর্গ যথাক্রমে ১, ৪, ৯, ১৬, ২৫। এখন প্রত্যেকটির সাথে ১ করে যোগ করলে কী দাঁড়ায়! ২, ৫, ১০, ১৭, ২৬ মানে আমাদের সেই ধারা। তাহলে পরের সংখ্যা কী হবে! ৬ এর বর্গ ৩৬ সাথে ১ যোগ, অর্থাৎ ৩৭।

সবসময় যে বাড়বে এমন কোনো কথা নেই। ১২, ৮, ৪, ০, -৪ এই ধারায় প্রত্যেকবার ৪ করে কমছে। ৩২, ১৬, ৮, ৪, ২ এখানে ২ দিয়ে ভাগ হচ্ছে।
এখন যেটা দেবো সেটা আগে থেকে একটু ধারণা না থাকলে বেশ কঠিন।

৩, ৪, ৫, ৩, ৭, ২, ৯, ১ __ এর পরের সংখ্যা কত?
এখানে আসলে দুটি ধারা পাশাপাশি চলেছে। একটু অন্যভাবে দেখালে বোঝা যাবে।
৩    ৫    ৭    ৯
_৪    ৩    ২    ১
উপরের ধারাতে ২ করে বাড়ছে। নিচের ধারাতে ১ করে কমছে। দুটি একত্রে মিশে একটি ধারা তৈরি করে। উপর থেকে একটি, তারপর নিচে থেকে একটি।

 

এমন অনেক জটিল থেকে জটিলতর ধারা আছে, আরও তৈরি করা যায়। এভাবে হিসেব করেই আমাদের ভবিষ্যৎ ধারণা করতে হয়। যে যত কঠিন ধারা সমাধান করতে পারবে তার ভবিষ্যৎ ধারণা করার ক্ষমতা বাড়বে। আবহাওয়াবিদরা বিভিন্ন খুঁটিনাটি হিসেব করে বলার চেষ্টা করে কাল কোথায় কখন বৃষ্টি হবে। একটি বল উপরে ছুঁড়ে মারলে ঠিক কখন নিচে এসে পড়বে সেটা সাধারণ মানুষ বলতে পারবে না। যে গণিত এবং বিজ্ঞান ভালো জানবে সে বলতে পারবে। কারণ গণিত আর বিজ্ঞানের কাজই হিসেব করে আগে থেকে বলে দেয়া।

দশ বছর পর দেশের জনসংখ্যা কত হবে বলে দেয়া যাচ্ছে। সূর্য প্রতিদিন আলো দিচ্ছে। একসময় এর শক্তি কিন্তু শেষ হয়ে আসবে। হিসাব করা হচ্ছে এর শক্তি কবে শেষ হবে। এখনো কিন্তু অনেক কিছুর হিসেব বাকি আছে। ভূমিকম্প কখন কোথায় হবে আগে থেকে বলার উপায় বের করা যায় নি। এই প্যাটার্ন এখনো ধরতে পারেন নি ভূ-তাত্ত্বিকরা। অনেক মানুষ নিরলসভাবে খেঁটে যাচ্ছেন এমন কোনো যন্ত্র তৈরি করার জন্য যা আগে থেকে বলতে পারবে ভূমিকম্পের আগমনী বার্তা। তখন লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে।
আমাদের জীবনে এমন অনেক প্যাটার্ন আছে। সেগুলো আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। সামনে কী হতে যাচ্ছে হিসেব করে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কীভাবে করলে সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। কীভাবে চললে ছয় মাস পর চাকুরিতে প্রোমোশন আশা করা যায়। কীভাবে খরচ করলে সামনে অভাবের মধ্যে পড়তে হবে না। এসব যার যার জায়গা থেকে হিসেব করতে হবে। গণিত আপনার এই ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

তাই জ্যোতিষীকে হাত দেখানো বাদ দিয়ে নিজের পরিবেশ আর কাজ দেখুন। পাশে রাখুন গণিতকে।

Posted in Uncategorized
Write a comment