
সারা দেশে ছাত্রদের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্ন হচ্ছে, “গণিত বিষয়টা কে আবিষ্কার করেছে? তাকে যদি একবার পেতাম!”
অধিকাংশ শিক্ষক এই প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে হেসে উড়িয়ে দেন অথবা ধমক দিয়ে থাময়ে দেন। আমার শিক্ষকরাও তাই করতেন।
উত্তর না পেয়ে নিজেই এটা নিয়ে ভাবলাম। বিভিন্ন বই ঘাঁটলাম। গণিত কোনো নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি রাতারাতি আবিষ্কার করে ফেলে নি। আর এতো আগে থেকেই গণিতচর্চা শুরু হয়েছে যে প্রথম দিকের কিছুই নাম-তারিখ দিয়ে উল্লেখ করা নেই। পৃথিবীর যেখানেই মানুষ ছিল সেখানেই গণিত লেগেছে। প্রয়োজনের খাতিরে গণিত বের করে নিয়েছে। তবে মিশর, গ্রিস, ভারতীয় উপমহাদেশ ও আরবে মানুষ বেশি থাকায় এসব এলাকায় গণিতচর্চা বেশি হয়েছে।

গণিতের অনেক কিছু এখনো গবেষণা করা হচ্ছে। এখনো আবিষ্কার করার চেষ্টা চলছে অনেক পদ্ধতির। আমরা যে এতো কষ্ট করে গণিত শিখছি এটা কী কাজে লাগবে? পিতা-পুত্রের বয়স, বানরের বাঁশ বেয়ে ওঠা-নামা দিয়ে আমাদের কী? লগারিদম, ত্রিকোণমিতি এসব প্যাঁচানো জিনিস তো আমাদের প্রতিদিনের কাজে লাগে না। একজন রিকশাওয়ালা তো শুধু যোগ-বিয়োগ জেনেই দিব্যি দিন পার করে দিচ্ছে।
আসলে গণিত হচ্ছে চিন্তা করার পদ্ধতি। আমাদের বইতে বিভিন্ন সমস্যা থাকে, আমাদের তার সমাধান করতে হয়। এটা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য ব্যায়াম। যে যত ভালো গণিত পারবে, তার জীবনে সমস্যা তত কম থাকবে। কারণ সে তার মাথাকে সমাধান বের করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী করে ফেলেছে।
সমস্যা সবার জীবনেই থাকে। যেহেতু তাকে সমাধান বের করার যোগ্য হতে হবে, তাকে গণিতের মতো কঠিন জিনিস ভেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। এক সময় গণিতের মজা পেয়ে গেলে সমস্যা সমাধান করাও তার কাছে মজার মনে হবে। আমার অন্তত তাই মনে হয়। কেউ সমস্যায় থাকলে আগ বাড়িয়ে তার সমাধান ভাবতে ভালো লাগে।