পতাকা যখন জায়নামাজ

পতাকা যখন জায়নামাজ
পতাকা দূরের কথা পুরো বাংলাদেশটাই কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের পায়ের নিচে। চিন্তা করে দেখুন আপনি-আমি বাংলাদেশের উপরেই দাঁড়িয়ে থাকি। কোলে বা মাথায় তুলে রাখি না। আরও বেশি করে চিন্তা করলে দেখবেন সারা পৃথিবীটাই আমাদের পায়ের নিচে।

বিশ্বকাপের সময় কিন্তু ফুটবলের গায়ে আয়োজক দেশের নাম লেখা থাকে। বাকি সব দেশের খেলোয়াড় এমনকি সেই দেশের খেলোয়াড়েরা কিন্তু তাতে লাথি মারে।

আমি যখন ছোট ছিলাম আমার আমার আব্বা প্রায়ই বলতো তার পা টিপে দিতে। আমার ছোট হাতে জোড় তখন কম ছিল তাই বলত তার উপর দাঁড়িয়ে হাঁটতে। তাহলে তার আরাম হতো। এখানে কি আব্বাকে আমি অপমান করতাম?
উদ্দেশ্যই এখানে মূল ব্যাপার। ফুটবলে লাথি মারছি খেলার জন্য, কোনো দেশকে অবমাননা করার জন্য না। আমি মুসলিম না, তবুও বলবো এক ব্যক্তি যদি পতাকাকে জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে তাতে খারাপ কিছু করে ফেলে নি। তার উদ্দেশ্য দেশকে ছোট করা ছিল কিনা সেটাই আসল কথা। এখন আপনি যদি বলেন সে পতাকার উপরে নামাজ পড়েছে তাই এখন থেকে আমিও পড়বো, তাহলে সেটা খারাপ কাজ হতে যাচ্ছে। কারণ আপনার উদ্দেশ্য এখানে আরেকজনকে খোটা দেয়া।
দেশের পতাকা দিয়ে আমি জামা বানালে আমি দেশের ভক্ত। কিন্তু আমার প্রিয় কুকুরকে বানিয়ে দিলে তা খুব খারাপ কাজ? আমি পোষা কুকুর নেই তবে যারা পোষে তাদের অনেকেই নিজের সন্তানের মতো ভালবাসে। আবার অনেকেই কুকুরকে রাস্তার প্রাণী ভেবে ঘৃণা করে। এখানে আপনার উদ্দেশ্যই কিন্তু আসল।
আপনি এমনভাবে শাড়ি পরলেন যে একটা দেশের পতাকা পায়ের কাছে থাকে। এখানে কিন্তু স্পষ্টভাবে দেশের অসম্মান করা হচ্ছে। চাইলে শাড়ি অন্যভাবে পরা যেত। এই ধরনের কোনো শাড়ি পরার বাখ্যা নেই কাউকে অপমান করা ছাড়া।

অধিকাংশ মুসলিম কুরআন যে উদ্দেশ্যে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে তাই করে না। “ওজু করে” “আরবিতে” “সুর তুলে” “শুধু রমজান মাসে” পড়া শেষ করে “চুমু দিয়ে” “আলমারির উপরে” রেখে দেয়ার জন্য কুরআন না। এই কাজ করে কেউ কুরআনের সম্মান করে উল্টে ফেলছে বলা যাবে না। ইসলাম অনুসারে কুরআন হচ্ছে গবেষণা আর জীবনে কাজে লাগানোর জিনিস। গবেষণার উদ্দেশ্যে আপনি যদি কুরআনের পিডিএফ মোবাইলে রাখেন। টয়লেটে গেলে যদি সেই মোবাইল পকেটে থেকে যায় এতে কুরআনের অবমাননা হয়ে যাবে না। আপনার উদ্দেশ্যই আসল। বুখারি শরিফের প্রথম হাদিসেই বলা আছে, নিয়তের উপর কর্মফল নির্ভর করে।

একজন হাফেজ নিজেই কুরানের একটা কপি, তার কি টয়লেটে যাওয়া নিষেধ?
কথায় কথায় দেশের সাথে ধর্ম, ধর্মের সাথে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সাথে খেলা মিশিয়ে একাকার করে ফেলছি আমরা। মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেই একটা আরেকটার। এসব বাজে অভ্যাস ত্যাগ না করতে পারলে ধর্ম বা দেশ কোনোটার সম্মানই দেয়া হবে শেষ পর্যন্ত।

Posted in Uncategorized
Write a comment