১৮+ ও শিশুর বিকাশ

১৮+ ও শিশুর বিকাশ

আমার মনে হয় ১২+ অথবা ১৮+ এই ধরনের ক্লাসিফিকেশনগুলো বাদ দেয়ার সময় এসে গেছে। সবকিছু হতে হবে “for all”। আগে অবস্থা এমন ছিল যে কিছু ব্যপার শুধু বড়োদের মধ্যে থাকত; ছোটরা নাগাল পেত না। তখন অধিকাংশ জিনিস বড়োদের উদ্দেশ্য করে তৈরি করার সুযোগ ছিল। ছোটদের খেলাধুলার বাইরে অল্পকিছু বই আর কার্টুন ধরিয়ে দিলেই তারা সন্তুষ্ট। এখন খেলার সুযোগের অভাবে ছোটরা ঘরকুনো হয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে প্রায় সবকিছুই নাগালের মধ্যে চলে আসছে। ৫-৬ বছরের ছোট বাচ্চা অনায়াসে টিভি চালিয়ে চ্যানেল পাল্টাতে পারে। কার্টুন দেখতে গিয়ে মাঝে মাঝে অনেক চ্যানেলেই তার সামনে এমন অবাঞ্ছিত দৃশ্য এসে পড়ছে যেটা তার এই বয়সে দেখার কথা না। সেটি তার সুস্থ মানসিক বিকাশের পথে বাধা। কম বয়সে মানুষের কৌতূহল বেশি থাকে। চোখের সামনে অস্বাভাবিক কিছু দেখে কৌতূহলী হয়ে সে প্রকৃত মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

একজন শিক্ষক হিসেবে ছোটদের সাথেই আমার অধিকাংশ সময় কাটে। তারা এখন এমন লাগামছাড়া পর্যায়ে চলে গেছে যে আমি সত্যিই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এর জন্য আমি ছোটদের কখনোই দোষ দেই না। মানুষ নিষ্পাপ হয়েই জন্মায়। দোষ আমাদের বড়োদের। আমরা তাদের উপযোগী পরিবেশ দিতে ব্যর্থ। কোন কথাগুলো ছোটদের সামনে বলা যাবে না তা-ই তো আমাদের মাথায় থাকতে চায় না। রাস্তায় স্কুল পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীর সামনে অনেককে অকথ্য ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। কেউ একটা বাজে কথা বললে তাকে তারচেয়েও খারাপ ভাষায় আরেকটা কথা না বললে আমাদের খাবার হজম হয় না। আমাদের ইগো এতো বেশি।

যাই হোক, একজন একজন করে বড় মানুষ ধরে আমাদের পক্ষে কখনোই ঠিক করা সম্ভব না। আমাদের হাত দিতে হবে ছোট থেকে যাতে আগামীতে এমন মানুষ তৈরি হওয়া বন্ধ হয়। প্রথমেই আমাদের ঠিক করতে হবে গণমাধ্যমগুলো। টিভি, পত্রিকা ও রেডিয়োতে এমন জিনিস প্রচার করা যাবে না যেটা সববয়সী মানুষের উপযোগী নয়। এবার বড়োরা ক্ষেপে যেতে পারে; তারা কি বসে বসে ডোরেমন দেখবে নাকি! “টেলিভিশন” সিনেমাটা আশা করি সবাই দেখছেন। এটা কি সব বয়সের উপযোগী নয়! সত্যজিৎ রায়ের কাজগুলো কি শুধু ছোটদের জন্যো? আমার ব্যক্তিগত প্রিয় চ্যানেল ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের অধিকাংশ অনুষ্ঠান ছেলে-বুড়ো সবার জন্য। পত্রিকায় অযথা কিছু আদিরসাত্মক ছবি এবং আর্টিকেল বাদ দিলেই কি নয়! অশ্লীল কৌতুকগুলোকে ‘অ্যাডাল্ট জোকের’ তকমা না দিয়ে সম্পূর্ণ পরিহার করলেও কি হাজার হাজার কৌতুক অবশিষ্ট থাকে না! ক্রিকেটের মতো ভদ্র খেলায় চিয়ার গার্ল আনার দরকার কী! সেন্সর করার কাজটাকে কি আমরা ঢেলে সাজাতে পারি না!
তবুও কথা থেকে যায়। বড়োদের কিছু ব্যাপার তো বৈধভাবেই আমাদের জীবনেরই অংশ। আর নাটক-সিনেমা আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। বাস্তবসম্মত করতে গিয়ে সামান্য কিছু জিনিস চলে আসতেই পারে। আমি বলব এই সামান্য কিছু দিয়ে শুরু হয়েই সবকিছু সীমা ছাড়িয়ে যায়। আর কাল্পনিক কিছু নাটক-সিনেমার মান রক্ষা করতে গিয়ে কি আমরা বাস্তব জীবনের মান বিসর্জন দিতে প্রস্তুত! তাহলে বুঝুন আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি!
Posted in Uncategorized
Write a comment