সাফল্য ও সার্টিফিকেট

সাফল্য ও সার্টিফিকেট

ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রকাশ করা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ১২৫ জন ব্যক্তির মধ্যে ৭৩ জনেরই পড়ালেখায় যা-তা অবস্থা ছিল। টানা তেরো বছর এই তালিকার শীর্ষে থাকা বিল গেটস তো কলেজই পার হতে পারে নি। অথচ মাত্র ৩১ বছর বয়সেই তিনি বিলিওনিয়ার (প্রায় ৮০০০ কোটি টাকার মালিক) হওয়ার রেকর্ড করেন। বর্তমানে এই রেকর্ড আরেক খারাপ ছাত্র মার্ক জাকারবার্গের দখলে। তিনি বিলিওনিয়ার হতে সময় নেন মাত্র ২৩ বছর! হ্যাঁ, আপনি ঠিক দেখছেন।

তাহলেই বোঝাই যাচ্ছে জীবনে খুব বড় হতে হলে আপনাকে পড়ালেখার কাঁধে চড়ে উপরে উঠতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে এই খুশিতে আপনি যদি আজ পড়ালেখা ছেড়ে দেন, কাল আপনাকে রিকশা চালাতে হবে।

সমস্যা তাহলে কোথায়? আমাদের দেশে?

না, সেটাও না। বাংলাদেশেই আপনি এমন উদাহরণ খুঁজে পাবেন যারা একসময় গরিব-স্বল্পশিক্ষিত ছিল এবং বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক।

এখানে মূল বিষয় হচ্ছে আপনি কী কাজে মনোনিবেশ করেছেন। স্কুল পালিয়ে যদি আপনি আমগাছে চড়ে থাকেন, ভার্সিটি না গিয়ে বাইকে প্রেম করে ঘুরে বেড়ান, তাহলে মোটা চশমা লাগিয়ে যারা পড়ালেখা করছে তারা একসময় দশতলা বিল্ডিং বানিয়ে তার ছাদে চড়বে আর বড় রাস্তায় প্রাডো নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। তখন আপনার বাইকও থাকবে না, প্রেমিকাও থাকবে না, জুতার তলাও থাকবে না।

আবার যে ছাত্রটা নোট নিয়ে বসে না থেকে নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টায় মগ্ন হয়ে আছে, অথবা যে ছাত্রটা নিজের উদ্যোগে কোনো ব্যবসা দাঁড় করাতে গিয়ে পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট নিয়ে কারো সামনে দাঁড়াতে পারছে না, তার নামই একদিন মানুষের মুখে মুখে উড়ে বেড়াবে। হয়তো তার সাথে আপনি কোনোদিন কোথাও বলতেন না, একসময় নিজেকে তার বন্ধু পরিচয় দিয়ে ক্রেডিট নেয়ার চেষ্টা করবেন।

পড়ালেখাকে একটা মধ্যম পন্থা বলা যায়। ভালোভাবে পড়ে আপনি জীবনকে মোটামুটি একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন। ঝুঁকিমুক্ত ও বিলাসী জীবন হয়তো পেয়ে যাবেন। কিন্তু যদি চান মৃত্যুর পরেও আপনার নাম কেউ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে, তাহলে আপনাকে যেতে হবে সার্টিফিকেট নামক কয়েকটা কাগজের টুকরার ঊর্ধ্বে।

Posted in Uncategorized
Write a comment