ভালো কথা

ভালো কথা

২০১৩ সালে প্রায় ৭ লাখ ব্যবহারকারীর স্ট্যাটাস নিয়ে ফেসবুক একবার গবেষণা চালায়। সফটওয়্যারের সুবিধার্থে গবেষণায় শুধু ইংরেজি পোস্টগুলো নেয়া হয়। Linguistic Inquiry & Word Count নামের সেই সফটওয়্যারের কাজ ছিল পোস্ট থেকে পজিটিভ শব্দ খুঁজে বের করা। হতে পারে সেটা happy, yahoo, nice, good অথবা 🙂 😀 এই ধরনের ইমো।

বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ পোস্ট ঘেঁটে দেখা যায় মানুষ যত শব্দ লিখেছে তার মাত্র .০৭% ছিল পজিটিভ। অর্থাৎ প্রতি দশ হাজার শব্দের মধ্যে ৭টি।এই তথ্য প্রকাশ করার পর মানুষ ফলাফল নিয়ে যতটা মাথা ঘামিয়েছে তারচেয়ে বেশি হৈচৈ হয়েছে এই ধরনের গবেষণা করা বৈধ কিনা। ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট করার সময় আমরা এর শর্তগুলো পড়ে দেখি না। সেখানেই বলা আছে গবেষণার স্বার্থে তারা এসব ব্যবহার করতে পারবে। গুগোল প্রতিবছর প্রায় ২০-৩০ হাজার এমন গবেষণা চালিয়ে থাকে।

একটি ভালো পোস্ট করে আমরা অনেকের মন ভালো করে দিতে পারি। মানুষকে অনুপ্রেরণা দিতে পারি। সহজে অনুভূতি প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম পেয়ে এখন অনেক ভালো লেখক তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমি খুব আপসেট হই এটা দেখে যে সবাই এই সমস্যা সেই সমস্যা নিয়ে কথা বলে। সমাধান নিয়ে কথা হয় কম। আরেকজনকে দোষারূপ করেই খালাস। নিজেরা সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলে না। কীভাবে আরেক দেশকে অপদস্থ করা যায় সেই চেষ্টায় থাকে। নিজের দেশ নিয়ে কাজ করতে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

অনেকগুলো প্রোজেক্ট মাথায় নিয়ে ঘুরছি। কারো সাথে কথা বলতে গেলে কেটে পড়ে।

কুরআনে আহবান জানানো হয়েছে, “তোমরা সৎকর্মের প্রতিযোগিতা করো।” অথচ ধর্মের দোহাই দিয়েই আরেকজনের পেছনে লেগে থাকার প্রতিযোগিতা করছে মানুষ।

এসব দেখে হতাশ লাগে। আমি আশায় থাকি কবে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হবে। গুগোলে সার্চ দিয়ে খারাপ সংবাদ খুঁজতে হবে।

Posted in Uncategorized
Write a comment